Thursday, 29 December 2016

কবিগুরুর শ্রীচরনে....

মস্তক নমি তব শ্রীচরনে, নূতন প্রাতের তুমি রবি হে।
বানী তব অমৃতপুরে, যুগে-যুগে বাজিছে সুরে,
জগতের তুমি কবি হে।।
দুঃস্বপনের দুঃসাগরে, কভু যদি হৃদি চঞ্চলি হয়,
স্বরন করিব তোমার বানী, তুমি যে রয়েছ বিশ্বময়।
কাঁপিবে না প্রাণ ডরে, তুমি রয়েছ যে পারাবারে,
দুঃসাগরের তুমি নবী হে।।
আমার মনের নিবীড় ছায়াতলে।
যখন তোমার রসের ধারা, আমার প্রাণে দেয় গো সাড়া,
ক্লান্তি আমার ঘুচিয়ে সকল, আসো গো পরানতলে।।
বৈশাখ তব চরন ছুঁয়ে, আসে গো এই ধরায়,
তোমারি চরন স্পর্শে, তারি বাতাশ গন্ধে ভরায়।
নিশীদিন তাই জাগরনে, তব মুখখানি আঁকি মনে,
হৃদয়পটে তুমি ছবি হে।।
                                         সৌমেন....
২৫-শে বৈশাখ, সন-১৪২২।
রাত্রি ০১ টা ২০ মিনিট।।

পাথরের জীবন....


জানিনা, ভাগ্য কেন আমায় আজ
রাস্তার পাথর বানিয়েছে,
রাস্তায় চলা সব পথিক
কেন এই হৃদয় মারিয়েছে।
প্রতিদিন এই হৃদয়ে সহেছি
কত যন্ত্রনা, কত বেদনা,
তবুও পাইনি খুঁজে আজ-ও
আমার মনের ঠিকানা।
কখন-ও এদিকে, কখন-ও ওদিকে
পায়ে করে যায় সরিয়ে,
কখন-ও আবার রাস্তার ধারে
কোথাও আমি যাই হারিয়ে।
কিছুই পাইনি এই সংসার থেকে,
পেয়েছি শুধুই চোখের জল,
আর-ও ব্যাথা দেয় মোর হৃদয়ে
এই রাস্তার-ই কোলাহল।
না কারো জন্য কিছু করতে পেরেছি,
না কোনোদিন করব।
হয়ত কোনোদিন, এই হৃদয় দিয়েই
কারো রাজপ্রাসাদ গড়ব।।
শুধু এই আশা নিয়ে পড়ে আছি রাস্তায়
হঠাত ভাগ্য চমকালো,
এক পথিক এসে তুলল আমায়,
এ কি! আবার এখানেই ফেলে গেল।
ওহে পথিক তুমি যেওনা চলে
আমাকে ফেলে হেথা,
পারছি না আর সইতে আমি
মোর হৃদয়ের ব্যাথা।
আমি কী পাব-না, কারো ভালোবাসা
কখন-ও কারো আদর,
হে ভগবান, কেন বানিয়েছ তুমি
আমাকে রাস্তার পাথর।
                                   সৌমেন....
২-রা পৌষ,  ১৪২০

পার্থনা...

জগত জুড়ে আমি যেন, বাতাস হয়ে বহি,
এই শুধু বর মাগি প্রভু, তোমার গান গাহি।
আকাশ পানে ধাইব আমি, যেমন বিহঙ্গ,
সাগরকূলে ফিরব বারেক, যেমন তরঙ্গ,
নব প্রভাতের রবির মতন, রইব তোমায় চাহি।
এই শুধু বর মাগি প্রভু, তোমার গান গাহি।।
তোমার পথের বাঁকে বাঁকে, ফুল হয়ে রব শাখে শাখে,
দলব তোমার চরণতলে, রাঙা হব ধূসর ধূলি মেখে।
ঝরনাতলে সুর বাজে ওই যেমনি দিবারাত্রি,
সকল দুঃখ ব্যাথার মাঝে তেমনি হব যাত্রী,
আনন্দেরে বিলায় দিব, দুঃখ সকল সহি।
এই শুধু বর মাগি প্রভু, তোমার গান গাহি।।

                                    #সৌমেন

০৩-রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৩
  রাত্রি ০১টা ৪৩ মিনিট।

Tuesday, 27 December 2016

ঝরাফুল.....

যদি হঠাৎ কখনো, আবার দেখা হয়,
অচেনা পথের বাঁকে, কোনো নিরালায়।
চিনতে কি পারিবে আমায়?
করিবে কি ক্ষমা, আমার সব ভুল?
ওগো, আমি যে ঝরাফুল।।
বাতাস যদি চঞ্চল হয়,
দেখিবে সারা অরন্যময়,
যাক-না নয়ন যেদিকে হারায়,
থাকব তোমার আঁখির তারায়।
ওই আঁখির পলক ফেলোনা কভু,
হব আমি ব্যাকুল।
ওগো , আমি যে ঝরাফুল।।
হয়ত লুটিব তোমার শিহরে,
দিবস-রজনী  আট প্রহর,
তোমার কমল হাতে ধরিবে কি আমায়?
নাকি ছুঁড়িয়া ফেলিবে পথের ধূলায়!
ভেবে হারা মোর হৃদয়কূল।
ওগো, আমি যে ঝরাফুল।।
তব হৃদয়কূঞ্জে পাই যেন ঠাঁই,
বৃথা এ জীবন, আর কিছু নাহি চাই,
ফুলসজ্জা সাজাতে তোমার,
লুটিয়ে দিব  আমার বাহার।
ধন্য হব পরশে আমি,তোমার আঁচল।
ওগো, আমি যে ঝরা ফুল।।

                                          সৌমেন.... 

২৮-শে চৈত্র,  ১৪২০
রাত্রি ১০ টা।

হৃদি দর্পন....


হৃদি দর্পনে হেরি, তব মুখখানি শ্যাম।
অন্তর মম শপিয়া তোমারে, জপি তব নাম।।
পরান যখনি পিপাসিত হয়,
তব বাঁশি মোরে কাছে ডেকে লয়।
যমুনার কূলে কেমনে বাঁশি, বাজাও অবিরাম।।
কাননে কাননে মৃগের সম।
খুঁজিতে খুঁজিতে হয় অবসান,
দেখিতে যখনি পায়না নয়ান,
তব সজ্জিত মুরতি প্রিয়তম।।
তখনি স্বপনে বিরাজ তুমি,
আমার করুন নয়ন চুমি।
তোমার বাহুর দোলায় দুলে, যাই-গো ব্রজ্যধাম।।

                                                      সৌমেন.... 

০২রা জ্যৈষ্ঠ, সন -১৪২২
সন্ধ্যা ০৫টা  ২৭  মিনিট।

লুকোচুরি খেলা...

আয় আয় খেলব  মোরা লুকোচুরি খেলা,
আয়-রে যদু, আয়-রে মধু, আয়-রে বন্ধু  মালা।
রান্না ঘরের পিছোনে,
চলরে লুকাই গোপনে।
কেহ নাহি চারিধার,
এক, দুই, তিন, চার,
গুনছে শোনো মালা।
চলরে লুকাই তাড়াতাড়ি, লুকাবার এই খেলা।।
আমরা অকারনে,
নিত্য নূতন ফুল ফোঁটাই , হৃদয় কাননে।।
আজ সকলে ঘর ছাড়া, 
আজ কে হব বাঁধন হারা।
আর কারো ধার  ধারবো না,
আজ কারো কথা শুনব না,
যাব না পাঠশালা।
আজ কে মোরা সারাটা দিন,করব শুধুই খেলা।।
                                           সৌমেন....
০৪/১২/২০১৪
১৮-ই অগ্রহায়ণ,  ১৪২১
দুপুর ০২ টা ০৫ মিনিট।

Monday, 26 December 2016

তোমার হাসির বাণ....

 মরিলেম হায়, ওই হাসির বাণে,
ভেদিয়া রহিছে তব মুখখানি আমার প্রানে।
না দেখিলে কভু তোমায় কাছে,
মনে লাগে ভয়, হারাই পাছে।
নিজের অগোচরে বারেক তাকাই হৃদয় পানে।।
মম চঞ্চল অন্তর মাঝে,
ঝিল্লির ঝঙ্কারে তব মঞ্জীর বাজে।
তমাল বনের সনে সুর মিলায়ে,
দিয়েছ আমাতে প্রেম বিলায়ে।
তোমার চকিত হাসি সাজে আঁখির কোনে।।
                                                  সৌমেন....
১৬-ই জ্যৈষ্ঠ, সন-১৪২৩
বিকাল ৪টা ২০মিনিট।

Saturday, 24 December 2016

শেষ লিখন...

ওই রে ফুরায় এল বুঝি, জীবনের শেষ আলোকরেখা।
তাই হোক, তবে তাই হোক,  এইখানে মোর শেষ লেখা।।
শেষ লিখন যেন তোমার প্রানে,
প্রথম সে লেখনের পরশ আনে।
হৃদয়ে তোমার যেন সেই স্মৃতি জাগে, দুজনার প্রথম দেখা।।
সেদিনের মত তুমি রবে কী দাড়ায়ে।
ঝরা ফুলে গাঁথা মালাখানি বারায়ে।।
যা কিছু সঞ্চয় ছিল মোর গান,
তোমার চরনে আজি হবে অবসান।
নত আঁখি ছল ছল বিরহ নিশীতে, রহিবে জাগিয়া একা।।
                                                               _সৌমেন....
০৬-ই মাঘ, সন-১৪২২
রাত্রি ০২টা ৪০মিনিট।

Thursday, 22 December 2016

মনের কৃষ্ণ প্রেম...

বধূ,  হব তোমার প্রেম দাসী।
হতেম যদি কৃষ্ণ, তুমি হতে কৃষ্ণ প্রেয়সী।।
চাহনি তোমার সুরমা আঁকা,
আমি বৃভঙ্গে তাকাই, যেমন শ্যাম বাঁকা।
তোমার আঁখির মধুর মদিরার আমি পিয়াসি।।
কভু যদি যমুনার কূলে বাঁশি ভরে সুর।
শুনবে কী তা সখা, শুনবে হয়ে বিধুর।।
একান্তে কভু গোপীর সনে,
অবিরত আমি খেলিব গোকুল-বনে।
বিবাদি প্রেমের আধো বোল, কইবে প্রানে আসি।।

১৩-ই বৈশাখ, সন-১৪২৩
রাত্রি ২-টা।

ক্ষনিকের প্রেম...

ক্ষনিকের তরে প্রেম দিয়েছিলে, তাই নিয়ে আজ-ও বাঁচি,
যতই তুমি দূরে দূরে থাকো, আমি আছি কাছাকাছি।

যে কথা বলনি মুখের ভাষায়,
বুঝেছিলেম চোখের ইশারায়,
তাই আজ-ও আমি তোমারি আশায় পথ চেয়ে আছি।
যতই আমারে এড়াতে চাও, অন্তরে তোমাকেই রচি।।

তোমার সনে কেটেছিল বেলা, সেই স্মৃতি লয়ে জাগি,
ফিরিয়া চাহ একবার তবে, এই বর শুধু মাগি।

এসেছ কী তুমি প্রভাত সনে,
মুকুল গন্ধ ভরা বাতায়নে,
কুহু-কেকা গাহে আনমনে, নূপুর ছন্দ বাজি।
যতই আমারে এড়াতে চাও, অন্তরে তোমাকেই রচি।।
                                                                _সৌমেন....
০১-লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৩
দুপুর ০১টা ৩২মিনিট।

Wednesday, 21 December 2016

*আমি বিষ পান করিব*


আমি বিষ পান করিব।
কভু যদি, তব আঁখি প'রে,
দুখের অশ্রু ধারা ঝরে,
তবে সেই আঁখি সুধা হরিব।
আমি বিষ পান করিব।।
আজি এ মাধবি নিশায়,
দুটি প্রাণ যাবে মিশায়।
যতক্ষন  কাছে রবে,ভরিব বাহু সৌরভে।
কভু যদি যাও চলে,
হতে আমার গ'লে।
শোহাগের গাঁথা মালাখানি ছিঁড়ে ফেলিব।
আমি বিষ পান করিব।।
মধু মিলনের দুটি বানী,
হয় হোক, কানাকানি।
তাতে কি'বা আসে যায়,তব অন্তর, কভু যদি ধায়,
আমার অন্তর হতে,
মাধবি নিশি শেষে, অরুণ প্রাতে।
তবে সেই বিরহ জ্বালায় জ্বলিব।
আমি বিষ পান করিব।।

১২-ই শ্রাবণ, ১৪২১
দুপুর ০১ টা ৩১ মিনিট।

কলমের বেদনা

যুগ যুগ ধরে লিখেছে শুধুই তোমার বানী।
তাই ভিখীরি এখনো হয়নি, মোর কলমখানি।।
কত সহস্র যন্ত্রনা, কত বেদনা, লিখেছে তাহার বক্ষচিরে,
তবুও পায়নি তোমার দেখা,  শুধু পেয়েছে স্বপ্ননীড়ে।
যখনি এসেছ হিয়ার মাঝে,  সকাল হোক বা স্নিগ্ধ সাঝে,
লিখেছে তোমার নামটি যতনে, মুঝে গেছো আখিনীরে।।
কাটিয়েছে রাত আমার সনে, আমিও ছিলেম মৌন  মনে,
জেগেছে মুদিত নয়নে।
তুমি ছিলে একলা  ঘরে, সাজানো তোমার শয্যা পরে,
নিদ্রায় যতনে।।
তবু তোমার কঠোর হৃদয়ে, দাওনি তারে ঠাঁই,
তুমি ছাড়া তাহার জীবনে, ওগো আপন আর কেহ নাই।
হতাশ মনে কলমখানি, শুধায় মোরে দুখের বাণী,
গানের পাতায় সেই কথাটি, আমি আজ লিখি তাই।।
না পাওয়ার বেদনায় বক্ষচিরে, আজ- ও লিখে সেই বানী।
দেখো, তবু ভিখীরি আজো হয়নি মোর কলমখানি।।
                                                     
                                                                _সৌমেন....

২১/০৮/২০১৪
রাত্রি ০১ টা ৩০ মিনিট।।

*রাখাল বনবাসি*

ওরে, ও রাখাল বনবাসি,
বনের ছায়াতলে, এমনি হৃদয়  মেলে,
চলেছো কোথায় বাজায়ে বাঁশি।
তরুলতার ডোরে, বাঁধা ঝুলনার প'রে,
লাগাও দোলা, যখন ভোলা,
হাওয়ার দোলা আসি।।
চঞ্চল মনে সারাবেলা, করো খেলা,
নাহি বেদনা, নাহিগো অবহেলা।
দু-হাত ভ'রে, কাহার ত'রে,
এনেছো তুলে ফুল রাশি।।
বনের ধারে তৃণের আচলে, বিছানা পাতি,
চেয়ে তারার পানে, কেমনে  কাটাও রাতি।
রবির কর, পূব দিগন্তে,
ফুটিবে যখন, নবীন প্রাতে।
ফোটাও কেমনে তোমার মুখের হাসি।।

০৯/০৯/২০১৪
দুপুর ০১ টা ৪৮ মিনিট।

Sunday, 18 December 2016

Like a song

দরজায় কড়া নেড়ে যায় সময়ের ঘন্টা,
জড়ায়ে তোমার স্মৃতি আজো থমকে গেছে মন টা।
সময়ের হাতছানি ডাকে বারে-বার,
আয় রে আমার সাথে যা হয়েছে হবার।
সে তো যায়না আর তোমার পথের দিকে,
প্রথম তোমায় দেখা পথের বাঁকে।
ফিরিয়ে দেয়না আর আগের মত তোমার মনের ভালোবাসাটা।।
নিঝুম রাতের শেষে ভোর আসে ওই,
তুমি আমার পাশে আগের মত কই।
আমার রাত্রি কেন হয়নি এখনো শেষ,
আসেনি জীবনে নব আলোর রেশ।
আসেনি ফিরে আর আগের মত আমার চোখের আলো-আশা টা।।

০৪-ঠা পৌষ, ১৪২৩
রাত্রি ০২টা ৩২মিনিট।

Saturday, 17 December 2016

প্রভাতে মা'র আশীষ

প্রভাতে আজি, রবির প্রথম কিরণ লাগলো গায়,
নমেছি মস্তক, মোর জননীর দুটি পায়।
করেছি বরণ, মা'র শ্রীচরন,
লহেছি তাঁরি আশিষ মাথায়।।
এ জীবন ধন্য আমার, ধন্য সকল বাসনা,
এই প্রভাতের এই আলোতে, জাগুক সকল চেতনা।
ঘুচিয়ে ক্লান্তি, সকল শান্তি,
পেয়েছি মা'র আঁচল ছায়ায়।।
দুর্গম বেগে, দুর্দম পথে,  চলব সকল কাজে।
কিছু নাহি ভয়, নাহি সংশয়, জানি আছে সাথে মা'যে।।
এই গৌরবে জ্বালিয়ে যাব, জীবনের সব আলো,
দিবশেষে রবি হোক না অস্ত, হোক না গভীর কালো।
ললা'টে মা'র, রবে ভাস্কর,
শুভ চন্দন টীকা প্রায়।।

২৮/০১/২০১৫
১৩-ই মাঘ, ১৪২১
রাত্রি ০২ টা ৩০ মিনিট।।